জীবনযাত্রা

ধূপকাঠিতে পত্রিতা নয়, রয়েছে বিষ!

ধূপকাঠিকুড়িগ্রাম লাইভ ডেস্ক :  হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান সব ধর্মের ধর্মীয় উৎসবে ধূপকাঠির ব্যবহার যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। বিশেষ করে ভারত উপমহাদেশে ধূপাকাঠির ব্যবহার ব্যাপক। কিন্ত আর নয় ধূপকাঠি, এবার সময় এসেছে প্রথা বদলানোর। কারণ, ধূপের শরীর থেকে যে ধোঁয়া বেরোয়, তা আমাদের শরীরে পক্ষে একেবারেই ভালো নয়। দীর্ঘ সময় ধরে তা যদি আমাদের দেহে প্রবেশ করতে থাকে, তাহলে নানাবিধ শারীরিক সমস্য়া মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। আসুন জেনে নিই কি কি সমস্যার তৈরি করতে পারে ধূপকাঠি-

১. ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা : ধূপকাঠি থেকে যে ধোঁয়া বেরোয় তাতে বেঞ্জন, কার্বোনায়েল এবং পলি অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বোনের মতো কার্সিনোজেনিক উপাদান রয়েছে, যা শরীরে প্রবেশ করা মাত্র ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তবে একদিনেই এমন হয় না। দীর্ঘদিন ধরে ধোঁয়ার মাধ্যমে এই উপাদানগুলো শরীরে প্রবেশ করতে করতে চূড়ান্ত ক্ষতি করে থাকে।

২. চোখ এবং ত্বকের ক্ষতি : ধূপের ধোঁয়ায় অনেকক্ষণ থাকলে চোখ থেকে জল পড়া এবং স্কিনের নানাবিধ সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। সেই কারণেই তো গর্ভবতী মহিলাদের ধুপের ধোঁয়ার মধ্যে থাকতে মানা করেন চিকিৎসকেরা।

৩. শরীরের ভেতরে প্রদাহ বাড়ে :  অ্যাজমা রোগীদের ভুলেও ধূপের ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ এমনটা করলে তাদের শরীরে প্রদাহ বেড়ে যায়। ফলে শ্বাসকষ্ট সহ নানাবিধ শারীরিক সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। এখানেই শেষ নয়, ধূপের ধোঁয়ার কারণে ব্রঙ্কিয়াল টিউবে জ্বালা হওয়ার মতো সমস্য়াও দেখা দিতে পারে।

৪. রেসপিরেটারি স্টিস্টেমের মারাত্মক ক্ষতি : দীর্ঘদিন ধরে ধূপ ব্যবহার করলে আপার রেসপিরেটারি ট্রাক্ট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে লাং ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। তাই নিজের এবং পরিবারের বাকি সদস্যদের শরীরের কথা ভেবে আজ থেকেই ধূপের ব্য়বহার বন্ধ করুন।

৫. সি ও পি ডি-এর আশঙ্কা : ধূপে উপস্থিত কার্বোন মনোঅক্সাইড, সালফার ডিওঅক্সাইড এবং ক্ষতিকারণ মনাইট্রোজেন দিনের পর দিন ধরে শরীরে প্রবেশ করতে থাকলে অ্যাজমা এবং সিওপিডি-এর মতো রোগের প্রকোপ চোখে পরার মতো বৃদ্ধি পায়।

৬. কোষের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া : বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, ধূপের ধোঁয়া এবং তাতে উপস্থিত একাধিক ক্ষতিকর উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর ধীরে ধীরে একাধিক কেষের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। সেই সঙ্গে কোষের আরও নানাভাবে ক্ষতি করে থাকে। ফলে শরীরের কর্মক্ষমতা কমতে শুরু করে।

৭. কিডনির ক্ষতি : ধূপের ধোঁয়ার কারণে লাং-এর যেমন মারাত্মক ক্ষতি হয়ে থাকে, তেমনি কিডনির কর্মক্ষমতাও কমতে শুরু করে। আসলে ধোঁয়া যে মুহূর্তে শরীরে প্রবেশ করে, তখনই সারাদেহে ক্ষতিকর টক্সিনের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। বিশেষত লেদের পরিমাণ বেড়ে যায়। এইসব টক্সিক উপাদানকে শরীর থেকে বার করতে কিডনিকে ওভার টাইম কাজ করতে পারে। এইভাবে চলতে থাকলে এক সময় গিয়ে কিডনির কর্মক্ষমতা কমে যেতে শুরু করে।

৮. ঘরে দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়া : ধূপের সুন্দর গন্ধে সারা ঘর ভরে যাওয়ার পর আমাদের অনেকেরই মন খুব খুশি হয়ে যায়। কিন্তু আপনাদের কি জানা আছে এই গন্ধ একেবারেই শরীরে পক্ষে ভালো নয়। কারণ ধোঁয়ায় উপস্থিত নাইট্রোজন অক্সাইড এবং কার্বোন মনোঅক্সাইডে সারা ঘরে সুন্দর গন্ধ ছড়িয়ে দিলেও আদতে কিন্তু ঘরের ভিতরের বায়ুকে বিষাক্ত করে দেয় আর এই বিষাক্ত বায়ু ফুসফুসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলেই ক্ষতি।

সংবাদ উৎস
বোল্ডস্কাই
ট্যাগ

এমন আরও সংবাদ

এছাড়াও এই নিউজ টা পরতে পারেন

Close
Close
Close