কুড়িগ্রামদেশজুড়েনাগেশ্বরীবিশেষ প্রতিবেদন

নাগেশ্বরীতে ভাইয়ের দীর্ঘজীবন কামনায় ভাইফোটা পালিত

নাগেশ্বরী প্রতিনিধি:
‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাটা। যমুনা দেয় যমকে ফোটা, আমি দেই আমার ভাইকে ফোটা। যম যেমন হয় চিরজীবি, তেমন আমার ভাই যেন হয় চিরজীবি।’ ১৬ নভেম্বর সোমবার এ মন্ত্র পাঠ করে ভাইয়ের দীর্ঘ পরমায়ু কামনায় নাগেশ্বরীর সকল সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু পরিবারে বোনেরা শুদ্ধাচারে তার বাম হাতের কড়ে আঙ্গুল দিয়ে ভইয়ের কপালে চুয়া-চন্দনের ফোটা একে দেয়। পালিত হয় ভাতৃদ্বিতীয়া বা ভাইফোটা উৎসব।

প্রতিবছর দীপাবলি ও কালীপুজার দুইদিন পর পঞ্জিকা অনুযায়ী কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের ২য় দিন এ শুভদিন আসে। হিন্দু সংস্কৃতিতে বহু বছর ধরে ভাই বোনের অটুট বন্ধনের এদিনটি পালিত হয়ে আসছে। এদিন সব বোনেরা নিজের ভাইয়ের সুস্বাস্থ্য, অমরত্ব, দীর্ঘায়ু কামনা করে। বোন দ্বারা ভাইয়ের পুজা হয় ললাটে তিলক কেটে, ভাইয়ের মঙ্গল কামনায়। ছোট ভাই হলে ধান দুর্বা দিয়ে বড় বোন তাকে আশীর্বাদ করে। আর বড় ভাই হলে প্রণাম করে ধান দুর্বা দিয়ে আশীর্বাদ গ্রহন করে বোন। এসময় বাজানো হয় শঙ্খধ্বনি। দেয়া হয় উলুধ্বনি। ভাইকে মিষ্টি খাওয়ায় বোন। ভাইও বোনকে কিছু উপহার দেয়। স্বাক্ষী হয়ে থাকে প্রজ্জ্বলিত প্রদীপের অনির্বাণ শিখা ও পরিবারের লোকজন। বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সেনপাড়া গ্রামের ডা. অমূল্য সেন, পবিত্র কুমার, কামাখ্যা, পশ্চিম নাগেশ্বরী সাঞ্জুয়ারভিটার চন্দন গুহ, বেরুবাড়ী খেলারভিটা গ্রামের বিপুল সেনসহ অনেকেই জানান, সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে প্রতিবছর তাদের বাড়িতে এ উৎসব পালিত হয়। এবারেও হয়েছে।

পুরাণ কাহিনী থেকে জানা যায়, এদিন মৃত্যুর দেবতা যম তার বোন যমুনার হাতে ফোটা নিয়েছিলেন। অন্যমতে নরকাসুর নামে এক দৈত্যকে বধ করার পর শ্রীকৃষ্ণ তার বোন সুভদ্রার কাছে আসেন, তখন সুভদ্রা তার ভাই শ্রীকৃষ্ণের কপালে ফোটা দিয়ে মিষ্টি খেতে দেন। তখন থেকে ভাইফোটার দিন বোনেরা তাদের ভাইয়ের কপালে চুয়া-চন্দনের ফোটা দিয়ে তাদের দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

এমন আরও সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button