নাগেশ্বরী

নাগেশ্বরীতে আমন ক্ষেতে ইঁদুরের আক্রমন কাঙ্খিত স্বপ্ন হারাচ্ছে কৃষক

নাগেশ্বরী প্রতিনিধি:নাগেশ্বরীতে পর পর পাঁচ বারের বন্যার পর রোপা আমন ক্ষেতে ইঁদুরের ব্যাপক আক্রমন। তারা দল বেধে কেটে সাবার করছে ফসল। কাঙ্খিত স্বপ্ন হারাচ্ছে কৃষক।
করোনায় ছন্দ পতন। বন্যায় পিছিয়েছে চাষাবাদ। তারপরেও বেশি দামে রোপা আমন চারা কিনে জমিতে লাগিয়েছেন কৃষক। কৃষি নির্ভরতায় করোনা-বন্যার ধকল কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিল তারা। কঠোর পরিশ্রমে তারা রোপা আমনের চাষ করে ২৪ হাজার ৩৭৫ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৪ হাজার ৩৭৮ হেক্টর জমিতে। নিয়মিত পরিচর্যায় চারাগুলো সুস্থ্য সবলভাবে বেড়ে ওঠার সময়ে শেষ মহুর্তে পঞ্চমবারের মত আঘাত হানে আশ্বিনী বন্যা। সবমিলিয়ে এবারের বন্যায় নষ্ট হয়ে যায় ৩ হাজার ৫৫৮ হেক্টর আমন ক্ষেত।
বন্যা পরিস্থিতির সম্পুর্ন উন্নতি হলে ধকল সয়ে ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় টিকে থাকে বাকী ক্ষেত। ধীরে ধীরে ধানের সবুজ গাছ-পাতায় ঢেকে যায় মাঠ। শরতের সকালের লাল সুর্য রশ্মি ধানের আগায় জমে থাকা শিশির বিন্দুতে বিচ্ছুরণ ঘটায়। দিগন্ত সাজে অপরুপ সাজে। বিকেলের হালকা বাতাসে দোল খায় সম্পুর্ন ক্ষেত। প্রকৃতির খেয়ালী পরিবর্তনের সাথে পুর্ন যুবতী হয় ধান গাছ। থোড় আসে পেটে। ফুল আসে গাছে গাছে। এ সময়েই ক্ষেতে আক্রমণ ঘটে মাজরা পোকার। হলদে বর্ণ ধারণ করে পাতা। অনেক ক্ষেতে বের হয় কালো নষ্ট শীষ। পার্চিং পদ্ধতি ও বালাই নাশক ছিটিয়ে মাজরার আক্রমণ অনেকটা ঠেকানো গেলেও ধানের শীষ আসার সময় হঠাৎ করেই ক্ষেতে আক্রমণ ঘটেছে ইঁদুরের। মাঠের এ কালো ইঁদুরের পুর্ন বয়স্কদের ওজন মাঝারি আকৃতির ১৫০-২০০ ও বড় আকৃতির ৫০০-১০০০ গ্রাম। মাথাসহ দৈর্ঘ্যরে চেয়ে এদের লেজ খাটো। পিঠের পশম কালচে ধুসর এবং পেটের পশম ফ্যাকাশে ধুসর। এরা ৪৫ ডিগ্রী কোনে তেছরা ভাবে শীষ কেটে মাঠে গর্ত করে সেখানে জমিয়ে বাসা তৈরী করে ও খায়। যা খায় তার চেয়ে ৪-৫গুন বেশি নষ্ট করে। ইঁদুর স্বভাবগতভাবে রাতে চলাচল করে ও দ্রুত লুকিয়ে পড়তে পারে বলেই কোনভাবে ঠেকানো যাচ্ছে না তাদের। ফলে কাঙ্খিত স্বপ্ন হারাচ্ছে কৃষক।
পৌরসভার ঠুটাপাইকর গ্রামের কৃষক আল আমিন জানান, এবারে তিনি ১০ বিঘা জমিতে রোপা আমন লাগিযেছেন। এর প্রায় ৬ বিঘা জমির ধানের শীষ কেটে ব্যাপক ক্ষতি করেছে ইঁদুর। ওষধ প্রয়োগে আশানুরুপ ফল না পেয়ে এখন তিনি প্রায় প্রতি রাতে ক্ষেতে চকলেট বোমা (পটকা) ফাটিয়ে শব্দে ভয় দেখিয়ে ইুঁদুর তাড়ানোর চেষ্টা করছেন। প্রায় একই রকম কথা বলেন পৌরসভার হাশেম বাজার এলাকার শহিদুল ইসলাম, শ্যামল চন্দ্র, নুরনবী, সেনপাড়া গ্রামের পবিত্র সেন, বালাটারী গ্রামের মাছুম, আব্দুর রাজ্জাকসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অনেকেই।
উপজেলা কৃষি অফিসার রাজেন্দ্র নাথ রায় জানান, বন্যা পরবর্তী রোপা আমন ক্ষেতে হঠাৎ করে মাজরা পোকার পাশাপাশি ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। যা প্রতিরোধের জন্য আমরা প্রতিটি ব্লকে গিয়ে ওষধ ছিটানো ও ইঁদুর তাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছি। মাজরা পোকার প্রকোপ কিছুটা কমে আসলেও ইঁদুরের উপদ্রব কমানোর জন্য কৃষকদের মেনির‌্যাট, জিংক ফসফাইট জাতীয় ওষধ গম, শুটকী মাছ, কাঁকড়ার সাথে মিশিয়ে ইঁদুরের গর্তের মুখে রাখার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ইঁদুর তা খেয়ে মরে যাবে। এছাড়াও সচেতনতায় আমরা প্রায় সন্ধ্যায় গ্রামের বিভিন্ন বাজারে প্রজক্টরের মাধ্যমে ইঁদুর নিধন ও ক্ষেতের রোগবালাই প্রতিরোধে বিভিন্ন সচিত্র প্রতিবেদন প্রচার করে আসছি।

এমন আরও সংবাদ

Leave a Reply

এছাড়াও এই নিউজ টা পরতে পারেন
Close
Back to top button