তথ্যপ্রযুক্তিবিশেষ প্রতিবেদনসুখবর প্রতিদিন

হার না মানা দুরন্ত পথিক এম আর জান্নাত স্বপন

দুরন্ত পথের দিশারী এম আর জান্নাত স্বপন
দুরন্ত পথের দিশারী এম আর জান্নাত স্বপন

সফল মানুষ মানেই হচ্ছে নিজের সফলতার জন্য, নিজের মত করে পথ সৃষ্টি করে নেয়া। গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে নতুন পথে আলোর দিশা খুঁজে পাওয়া হচ্ছে দুরন্ত পথিকের কাজ। তেমনি এক দুরন্ত পথিকের সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিবো। বাংলাদেশের ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর অন্যতম পথিকৃৎ এম আর জান্নাত স্বপন। যিনি আলো ছড়াচ্ছেন প্রতিনিয়ত এই সেক্টরে।

ওয়েব ডেভলপমন্ট এ কোন প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকা কিংবা কোন কম্পিউটার না থাকা সত্ত্বেও স্বপনের বন্ধুর পথে দৃপ্ত পথচলা আপনাকে মুগ্ধ করবে নিশ্চিত। সকল বাধার বেড়াজাল ভেঙে স্বপন আজ একজন প্রতিষ্ঠিত সফল ওয়েব ডেভেলপার। কীভাবে উনি এত সফল ,আসুন একটু জেনে নেই।

ধৈর্য: প্রথম স্বপন যখন ওয়েবসাইট বানানো শুরু করেন তখন তার ছিল না, কাজ করার আসল হাতিয়ার, কম্পিউটার। তিনি সাইবার ক্যাফেতে বসে কাজ শিখেছেন এবং অসীম ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে প্রায় অর্ধ শতাধিক ওয়েবসাইট সাইবার ক্যাফেতে বসেই তৈরি করেন। একজন সফল ওয়েব ডেভেলপার হতে ধৈর্যই প্রধান হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন এম আর জান্নাত স্বপন

কঠোর পরিশ্রম: পরিশ্রমই শক্তি, সেটাই ধরে এগিয়ে গেছেন স্বপন। তিনি একসময় দিনে পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এরপর রাতে বাসায় এসে ওয়েবসাইট ডেভেলপ করেছেন।একটা সময় দিনে শুধু ৩-৪ ঘণ্টা ঘুমাতে হতো তাকে কাজের প্রচন্ড চাপে। কিন্তু তিনি কঠোর পরিশ্রমে সব চাপ জয় করে আজ একজন সফল ওয়েব ডেভেলপার।

একাগ্রতা: স্বপন যেকোন কাজেই প্রচুর মনোযোগ দিয়ে করেন। কোন ত্রুটি রাখতে পছন্দ করেন না। টেক্সটাইল সেক্টরে তিনি একাগ্র আর পরিশ্রমী হিসেবে যথেস্ট সুনাম কামিয়েছেন। ওয়েবসাইট ডেভেলপ এ তিনি কোন ত্রুটি রাখেন না সাধারণত, প্রচুর মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে দিতে পছন্দ করেন । বায়ারের বাজেট কম হোক বেশি হোক তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বায়ারের কাজ করেন ।

সততা: এম আর জান্নাতের সফল হওয়ার পেছনে সবচেয়ে যে বিষয় কাজ করেছে সেটি হলো সততা। দীর্ঘ ১৭ বছর টেক্সটাইল সেক্টরে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে টেক্সটাইল সেক্টর ছেড়েছেন।এখন ওয়েব ডেভেলপিং এ তিনি সততার প্রশ্নে আরো বেশি আপোষহীন। অনলাইনে মানুষ সাধারনত মানুষকে বিশ্বাস করতে চায় না,কিন্তু এম আর জান্নাত স্বপন এমন কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সেটি বর্তমান যুগে বিরল। অনেক সময় তিনি গ্রাহকের কাজ পেমেন্ট না নিয়ে করে দেন, আবার কিছু কিছু গ্রাহক তাকে অগ্রিম পেমেন্ট দিয়ে দেন তার সুখ্যাতির জন্য। অনেক  গ্রাহক  তার সততায় মুগ্ধ হয়ে অনেক দিন কাজ করে যাচ্ছেন।

সময়ানুবর্তিতা: অনলাইনে দেখা যায় মার্কেট প্লেসে সময়ের কাজ সময়ে করে দিতে পারেনা অনেক ফ্রিল্যান্সার। কিন্তু এদিক দিয়ে এম আর জান্নাত স্বপন একেবারে ব্যাতিক্রম।তিনি নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই কাজ করে দেন বলে বায়ারদের কাছে সুখ্যাতি আছে । এজন্যই গত ৫-৬ বছরে তিনি ৫০০ টির বেশী ওয়েবসাইট ডেভলপ করেছেন।

সময়ের কাজ সময়ে করে দেন বলে অনেকে তার কাছে রেফার করেন কাস্টমারদের , যা তার মার্কেট প্লেসে তার চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে ।

সততা, ধৈর্য, একাগ্রতা, কঠোর পরিশ্রম,সময়ানুবর্তিতা যার মধ্যে আছে সে কখনো বিফল হয় না। সফলতা তার জীবনের অনুষঙ্গ, আর এই জ্বলন্ত উদাহরণ আমাদের দেশের গর্ব এম আর জান্নাত স্বপন । সততা,ধৈর্য,একাগ্রতা,কঠোর পরিশ্রম,সময়ানুবর্তিতা  প্রভৃতি গুণের চমতকার সন্নিবেশে স্বপন নিজেকে নিয়ে গেছেন ভূমি থেকে পাহাড়ের চূড়ায়। দেশের হাজারো তরুন তাঁর দ্বারা অনুপ্রাণিত হোক, আমাদের অর্থনীতি এমন স্বপনদের জন্য আরও এগিয়ে যাক।

 

এমন আরও সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button