নাগেশ্বরী

নাগেশ্বরীতে টানা বৃষ্টিপাতে ফের বন্যা

নাগেশ্বরী প্রতিনিধি:
নাগেশ্বরীতে এক অশ্বিনে কয়েকদিনের ব্যবধানে ফের বন্যা। চতুর্থ দফা বন্যার উন্নতি হতে না হতেই টানা বৃষ্টিতে আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে সব নদ-নদীর পানি। দেখা দিয়েছে ৫ম দফা বন্যা।
মৌসুমী জলবায়ুর সক্রিয়তায় টানা বৃষ্টিপাতে করোনা, পর পর তিন দফা বন্যা পরবর্তী এই আশ্বিনে প্রথম সপ্তাহে বন্যা দেখা দেয়। দুইদিন পরে এর কিছুটা উন্নতি ঘটে। তবে তখনো জাগেনি ৮৬০ হেক্টর জমির রোপা আমন, ১৩০ হেক্টর জমির শাকসবজি, ২৫ হেক্টর জমির মাসকালাই ও ১০ হেক্টর জমির চিনাবাদাম ক্ষেত। এরমধ্যে টানা বৃষ্টিপাতে আবারও বেড়েছে উপজেলার ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমর, ফুলকমর, গঙ্গাধর, শংকোষসহ সকল নদ-নদীর পানি। দু’কুল ছাপিয়ে ঢুকে পরেছে লোকালয়ে। দেখা দিয়েছে ফের মাঝারি ধরনের ৫ম দফা বন্যা। ঐ অবস্থায় আছে তলিয়ে থাকা ক্ষেত। পানি উঠেছে অনেক রাস্তা-ঘাটে।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, রবিবার দুপুর পর্যন্ত ২৯১ মি.মি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকবে। থেমে থেমে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
কৃষিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত এ এলাকার অর্থনীতি। তাই কয়েক দিনের ব্যবধানে পর পর দুইবার অসময়ের এ বন্যায় ফসল তলিয়ে যাওয়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন কৃষক। এমনিতেই আগের তিন দফা বন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে তাদের রোপা আমন বীজতলা। দীর্ঘ জলাবদ্ধতায় পিছিয়ে গেছে চাষাবাদ। তারপর বেশি দামে চারা কিনে লাগাতে হয়েছে জমিতে। একে ঘিরে করোনা, বন্যার ধকল কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করে তারা। ঠিক এ সময়ে চতুর্থ ও পঞ্চম দফা বন্যায় ফের তলিয়ে গেল।
পৌরসভার পুর্ব সাঞ্জুয়ারভিটার শহিদুল ইসলাম, লিটন মিয়া, ভৈসতুলি পাড় এলাকার আবু আব্দুল্লাহ মিয়া (৪২), আমজাদ হোসেন (৫৫), নুর ইসলাম (৪৪), বেরুবাড়ী ইউনিয়নের নামদানীটারী গ্রামের হোসেন আলী (৫০), আশরাফুল আলম (৪৫), কালীগঞ্জের মন্নেয়ারপাড় গ্রামের খলিলুর রহমান (৪৩), আবেদ আলী (৬৬), নিজাম উদ্দিন (৬২)সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন জানান, বছরের শুরু থেকে নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত আমরা। করোনার মধ্যে চাষাবাদের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বারবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। তারপরেও শেষ ভরসার রোপা আমন ক্ষেতও চতুর্থ ও পঞ্চম দফা বন্যায় তলিয়ে গেল। পানি দ্রুত নেমে না গেলে ফসলের যে ক্ষতি হবে তা আমাদের পক্ষে পুষিয়ে ওঠা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজেন্দ্র নাথ রায় জানান, অসময়ের এ বন্যায় যে ফসল তলিয়ে গেছে দ্রুত পানি নেমে গেলে হয়তো এর ক্ষতি কম হবে।

এমন আরও সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button