কুড়িগ্রামবাংলাদেশ

কুড়িগ্রামে বোরো ধান চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক

বোরো ধান চাষ শুরু

জে এম অালী নয়নঃ

কুড়িগ্রামে বোরো ধানের চাষের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে । এখন মাঠে মাঠে জমি প্রস্তুুতি ও চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে মাঝে মাঝে বিদ্যুতের লোড শেডিং-এর কারণে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। অপরদিকে লোকসান ঠেকাতে আগামী বোরো ক্রয় মৌসুমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার দাবী জানান তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার উলিপুরে চলতি মৌসুমে চাষীদের মধ্যে বোরো চাষের ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। শীতের প্রকোপ কিছুটা কম থাকায় কৃষকরা কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ উলিপুর উপজেলার সর্বত্র জুড়ে এখন চলছে বোরো ধান চাষাবাদের মহোৎসব। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে মাঠে চলছে পানি সেচ, জমি প্রস্তুুতি, বীজতলা থেকে চারা উত্তলন ও জমিতে চারা রোপনের ব্যস্ততা। নন্দুনেফড়া গ্রামের কৃষক সোলেমান অালী বলেন, “গভীর নলকুপ দিয়ে আমাদের চাষাবাদ করতে হয়। সবাই একসাথে জমি তৈরী করতে নলকুপের উপর কিছুটা চাপ পড়েছে। অপরদিকে বিদ্যুতের মাঝে মাঝে ভেলকিবাজী চলছে। দিনে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। গভীর নলকুপ থেকে ঠিকমতো পানি না পাওয়ায় জমি প্রস্তুতি করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিকমতো থাকলে সুষ্ঠু ভাবে ফসল ঘরে উঠবে আশা করছি।”

কৃষক আব্দুল হক বলেন, “ডিএপি ১বস্তা ৮শ’ ৮০ হতে ৯শ’ টাকা, এমওপি ১ বস্তা ৭শ’ ৫০ টাকা, ইউরিয়া ১বস্তা ৮শ’ ৩০ টাকা, অন্যান্য সার বাবদ ৭শ’ টাকা, বালাইনাশক ১১শ’ টাকা, জমি চাষ ও রোপন ২ হাজার ৫শ’ টাকা, পানি সেচ ১ হাজার ৭শ’ টাকা এবং কাটা-মাড়াই প্রায় ২ হাজার ৮শ’ টাকাসহ প্রায় ১১ হাজার থেকে ১২হাজার টাকা বিঘা প্রতি খরচ হয়ে থাকে। বিঘা প্রতি ফলন হয় ২২-২৫ মণ। বর্তমান বাজারে ধানের দাম ৬৫০ টাকা করে। যাদের নিজস্ব জমি তাদের কিছুটা লাভ থাকে। কিন্তু যারা বর্গাচাষী তাদের কিছুই থাকেনা। এতে করে প্রতিবছর আমাদের লোকসান গুনতে হয়। তার উপরে আবার আছে গ্রামের কিটনাশক ও সারের দোকানগুলির চলে এক মুখি ব্যাবসা। প্রত্যেকেই দাম বেশি রাখেন!

Durbar দূর্বার jute products পাট জাত পণ্য জে এম আলী নয়ন j m ali nayon
Floor Mat | Price: ৳1600
Size: 90cm | Click here

কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উলিপুর উপজেলায় এবার ২০হাজার ৩১১হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্রি-ধান ১৪ (নাড়িয়া), ব্রি-ধান ২৮, ব্রি-ধান ৬৩, ব্রি-ধান ৬৪, ব্রি-ধান ৬৫, ব্রি-ধান ৬৭, ব্রি-ধান ৮১ সহ হাইব্রিড মিনিকেট ধান চাষ হচ্ছে।

কৃষকরা জানান, প্রতিবছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়ে থাকে। এ মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে রয়েছে। শীত এবং কুয়াশার প্রকোপ থাকার পরেও বোরো ধানের চারা ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে কম। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটে তাহলে এবছরও বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, “আমি সব সময় কৃষকদের সাথে থেকে তাদের কার্যক্রমে সকল ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকি।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, কৃষকদেরকে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতিসহ সকল প্রকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনূকুলে থাকলে চলতি বছর বাম্পার ফলন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

এমন আরও সংবাদ

Back to top button
Close
Close