Trending

রংপুরে শিক্ষক নিয়োগের নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

জে এম আলী নয়নঃ অভিযোগ উঠেছে, রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার নাজিরদহ পাটোয়ারী টারী দাখিল মাদ্রাসা সুপার মোঃ আব্দুল বাতেন ও মাদ্রাসা সভাপতি মোঃ খাতের আলী প্রতিষ্ঠাকালীন নিয়োগকৃত শিক্ষকদের চুড়ান্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে ও মাদ্রাসার জমি বিক্রির প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মাদ্রাসাটি ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠাকালীন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ নিয়মিত শিক্ষাদান করে আসলেও মাদ্রাসাটি ২০১৯ সালে এমপিও ভুক্তির তালিকা ভুক্ত হওয়ার পর হতে প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষকদের স্থলে বিধি বর্হিভুতভাবে টাকার বিনিময়ে নতুন শিক্ষক নিয়োগের পায়তারা চলছে।
এলাকাবাসী ও শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উক্ত মাদ্রাসার উন্নয়নের কথা বলে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করলেও সুপার মোঃ আব্দুল বাতেন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে শিক্ষকদের নামের তালিকা প্রদানের ক্ষেত্রে ইতি পূর্বে প্রেরিত প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষকদের নামের পরিবর্তে নতুনভাবে অন্য শিক্ষকের নামের তালিকা প্রদানের পায়তারা করছে। মাদ্রাসার শিক্ষকরা আরো জানান, আমরা ২০০০ সাল হতে এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করে আসলেও অত্র মাদ্রাসার সুপার মোঃ আব্দুল বাতেন আমাদেরকে বঞ্চিত করার পায়তারা করছে। শিক্ষকের তালিকা থেকে আমাদের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার সুপার ও সভাপতি আমাদের দাবী এরিয়ে যান। আমরা আমাদের জীবনের ২০টি বছর অত্র মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যয় করলেও এখন আমাদেরকে আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। বর্তমান আমাদের অনেকেরই সরকারি চাকরির বয়স শেষ হয়েছে এবং আমরা আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে অত্যন্ত অভাব অনাটনের মধ্য দিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। তাই আমরা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী কাছে আবেদন জানাচ্ছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আমাদের সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হউক।
খবর নিয়ে জানা যায়, উক্ত মাদ্রাসা এ্যাডহক কিমিটির সভাপতি নিজস্ব প্রভাব খাটিয়ে বিধি বর্হিভুতভাবে গত ১০ বছর যাবৎ সভাপতি হিসাবে আছেন এবং মাদ্রাসাটি নিজের ইচ্ছামত পরিচালনা করছেন। সুপার মোঃ আব্দুল বাতেন ও এ্যাডহক কমিটির সভাপতি মোঃ খাতের আলী যোগসাজসে মাদ্রাসার নামের ১৪ শতাংশ জমি গত ২২/৭/২০১৯ইং তারিখে কাউনিয়া সাবরেজিস্টার অফিসের দলিল নং ২৩৩৩ মুলে ২ লক্ষ টাকা মুল্যে বিক্রি করলেও তা আদৌ মাদ্রাসার কোনো উন্নয়নমুলক কাজে লাগেনি।
এ এব্যাপারে মাদ্রাসা সভাপতি মোঃ খাতের অালীর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান আপনার যা জানার অাছে মাদ্রাসা সুপারঃ মোঃ আব্দুল বাতেনের সাথে কথা বলে জেনে নিন। পরে মাদ্রাসা সুপার মোঃ আব্দুল বাতেনের সাথে কথা হলে তিনি জানান “নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই, কারণ আগের শিক্ষক নিয়োগ দেয়া আছে এবং আমি তাদের দারা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছি।” তাহলে এমপিও ভুক্তির তালিকায় নামের পুরাতন শিক্ষকদের নাম বাদ দিয়ে নতুন শিক্ষকদের নামেল তালিকা প্রস্তুত করে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে সেই নতুন শিক্ষকদের নামের তালিকা পাঠানোর জন্য প্রস্ততি নিচ্ছেন কেন? এমন একটি প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে বলেন “পরে কথা হবে”। এ কথা বলেই তিনি ফোন কেটে দিলেও পরে আর কোনো ফোন কল রিসিভ করেননি। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনাকর পরিবেশ বিরাজ করছে এবং যেকোন সময়ে একটি অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসি।

ট্যাগ

এমন আরও সংবাদ

এছাড়াও এই নিউজ টা পরতে পারেন

Close
Back to top button
Close
Close