ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকেভ্রমণ

মান্না দে-র কফি হাউজ ও ১৮ রুপির কাপ ধোয়া পানি

কলকাতার পথে পথে

M R Jannat Swaponশাকিল হোসাইন: আগে একটু ভুমিকা দিয়ে নেই। কেউ কোথাও ১০০ বার গিয়েও এককলম লেখে না। কেউ ১ বার গিয়েই লিখে ফেলে। কোনো স্থান কারো কাছে আমেরিকা, কারো কাছে ভালুকা। নির্ভর করে ব্যক্তিটি কতটুকু আর কিভাবে প্রভাবিত হয়েছে। আর দুনিয়ার সাতশো কোটি মানুষের চোখে পৃথিবী সাতশো কোটি রকম। যা হোক, আমার কলকাতায় ৯ বার ভ্রমন শুধুই ভ্রমন, চিকিৎসা বা ব্যবসার জন্য না। আর ভালোলাগা থেকেই লেখা, এই যন্ত্রনা আরো কিছুদিন হয়তো চলবে! 😀 বিরক্ত হলে অগ্রিম ক্ষমা প্রার্থনা। :/ এড়িয়ে যাবার অনুরোধ।

চোরবাজার থেকে বেরিয়ে রাস্তা পার হয়ে লোকাল বাসে চাপলাম, গন্তব্য মেডিকেল বাসস্ট্যান্ড। ভাড়া ৭ রুপি। রাস্তা পার হলেই কলকাতা মেডিকেল কলেজ। অনেকটা ঢাকা মিটফোর্ডের মতো। রোগ শোক দেখতে আর কার ভালো লাগে! তাই পা চালিয়ে পার হলাম হাসপাতালটা। এ গেট দিয়ে ঢুকে ও গেট বেরুলেই পড়ুয়াদের স্বপ্নরাজ্য কলেজ স্ট্রিট। যদিও অন্যদের কাছে বাংলাবাজার থেকে ভিন্ন কিছু মনে হবে না। অথচ স্থান-কাল-পাত্র ভিন্ন, বা কাগজ, কালি, লেখক অন্য হলেও নতুন বইয়ের কাঁচাগন্ধ একই রকম নেশা ধরানো।

দেজ পাবলিকেশন্সের মতো বইয়ের বিখ্যাত দোকানগুলো দেখার পাশাপাশি খোঁজ করছি “সেলেসটিয়াল বডিস” বইটির। যতই ভেতরে ঢুকছি, দেখছি, কিন্ত ওই বইটি নেই কোথাও! এক প্রিয় ছোটবোন বইটার কথা বলেছে। দুনিয়ার রেয়ার কালেকশনের আস্তানা কলেজ স্ট্রিট! অথচ; হতাশ হচ্ছি।

ও হ্যা, “সেলেসটিয়াল বডিস” বুকার পুরস্কারপ্রাপ্ত আর বেস্ট সেলারও। তো বেস্টসেলার বই ঢাকায় সহজলভ্য অথচ কলেজ স্ট্রিটে পাওয়া যাবে না এ কেমন কথা?! সেলসম্যানদের বিব্রত ভঙ্গি যথারীতি বিরক্তি বাড়াচ্ছে।

গরুখোঁজা শেষে পেলাম এক জায়গায় শেষ কপিটা কথা ও কাহিনী দোকানটিতে। এরপর যথারীতি মান্না দে-র বিখ্যাত গানের কফি হাউজে।

বিশাল বড় হলরুম। ব্রিটিশ আমলের আদলে সাদা পাগড়ীর সাথে সাদা শেরওয়ানী পরা বুড়ো খানসামা, উচু ছাদ থেকে লম্বা রড দিয়ে প্রাচীন পাখাগুলোর ঘটঘট শব্দে ঘোরা, পাশে রবি ঠাকুর ও অন্যান্য ছবি। একেবারে প্রাগৈতিহাসিক!

ঠিক পঞ্চাশের দশক যেন এখনো থমকে আছে এখানে। পুরনো সিড়ি, মেইনসুইচ, কালো আসবাব, সব বই থেকে উঠে আসা চরিত্র যেন। এখন ধুমপান বন্ধ।

একালের নিখিলেশ, মইনুল, রমা রায়েরা ভেতরে টেবিল সব প্রায় ভরাট করে। আশ্চর্যের বিষয়, এত মানুষ অথচ হৈচৈ নেই! পাশাপাশি ১০/১৫ শতাংশ সাদা চামড়াও আছে।

খাবার মোটামুটি সস্তাই বলা চলে। ব্রিটিশ আমলের মেন্যু বহাল। মেন্যুর ছবিও দিয়ে দিলাম। কিন্তু ইন্ডিয়ান কফিবোর্ডের সমবায়ে চলা কফি হাউজের কফিতেই ঘাপলা। একেবারে ঢ্যালঢ্যালে পাতলা, ঠিক মতো গরমও না। আমার ধারনা বাংলাদেশে যে কফি খাই, সেই কফির কাপ ধোয়া পানির স্বাদ এমন হবে। প্রাচীনপ্রেমিদের কাছে কফি হাউজে সব দারুন, শুধু কফি বাদে!

সেখান থেকে বেরিয়েই হাতের ডানে প্রেসিডেন্সি কলেজ। গথিক স্টাইলের দৃস্টিনন্দন আরেক বিস্ময়। ছাত্রছাত্রীদের কলকাকলীতে মুখর।

ভবিষ্যতে এগুতে হলে অতীত মনে রাখতে হয়। তাদের মুন্সীয়ানাই হচ্ছে সেই অতীতটা ধরে রাখা। এখনো ঢাকার মতো আগ্রাসী আর লোলুপ দৃস্টি পড়েনি এসব স্থাপনা আর ঐতিহ্যে। এতবড় গুর্দ্দা হয়নি ব্যবসায়ীদের, হয়তো সরকারের শক্ত অবস্থান আর জনগনের সচেতনতার জন্যে। পরম যত্নে আর ভালোবাসায় ধরে রেখেছে তারা সব। আর এখানেই পশ্চিমবঙ্গের বিশেষত্ব।

সংবাদ উৎস
চোর বাজার, চাঁদনী চক ও সস্তার মোবাইল বৃত্তান্তজাকারিয়া স্ট্রিটে সুফিয়ার পায়া নেহারি কাহিনীকলকাতার নাখোদা মসজিদ ও এক দেশীভাইহুগলীর তীরে, হাওড়া ব্রীজে
ট্যাগ
Back to top button
Close
Close