ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকেভ্রমণ

কলকাতার নাখোদা মসজিদ ও এক দেশীভাই

কলকাতার পথে পথে

কলকাতার নাখোদা মসজিদ
কলকাতার নাখোদা মসজিদ

শাকিল হোসাইন: হাওড়া স্টেশন থেকে বৃস্টি কাদা ঠেলে পৌছলাম বড়বাজারে। কলকাতার সবচেয়ে বড় ও বিখ্যাত পাইকারী বাজার। এর লাগোয়া জাকারিয়া স্ট্রিট, মুসলিম প্রধান উর্দ্দুভাষীদের এলাকা। মোগলাই খাবারের জন্য সুনাম কলকাতা জুড়ে।

জাকারিয়া স্ট্রিট আর রবীন্দ্র স্মরনীর ঠিক সংযোগস্থলেই বিশাল পুরনো নাখোদা মসজিদ। প্রায় ৮০ বছর হবে নির্মানের বয়স।

আমার হাঁটাসঙ্গী ছোটভাই যমুনা টিভির স্টুডিও ক্যামেরাম্যান আলী। ও ঢাকা থেকে নিয়ত করে গিয়েছে বিখ্যাত নাখোদা মসজিদে নামাজ পড়বে এক ওয়াক্ত হলেও। মসজিদ দেখে আমারও মনটা টানলো জোহর ওয়াক্ত আদায় করার জন্য। যদিও তখন আসর সমাগত।

নাখোদা ফার্সি শব্দ, যার আভিধানিক অর্থ হল জাহাজের ক্যাপ্টেন বা সমুদ্র বণিক। গুজরাট প্রদেশের কচ্ছের একটি ক্ষুদ্র সুন্নি সম্প্রদায় মুসলিম “কাচ্ছি মেমন জামাত” কলকাতায় অভিবাসনের পর এই মসজিদ তৈরী করে।

তাদের নেতা আব্দুর রহিম ওসমান ছিলেন পেশায় সমুদ্র বণিক। তিনিই এই মসজিদ তৈরির বড় অংশ অর্থ প্রদান করেন। তাই মসজিদটির নামকরণ হয় “নাখোদা মসজিদ”।

“বাড়ে মাসজিদ” নামেও সমাদৃত কালো পাথরে তৈরী মসজিদটি অসহ্য গরমেও শান্ত স্নিগ্ধ। চমৎকার নির্মানশৈলী মুঘল আমলের কথা মনে করিয়ে দেয়। পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে ঈদ রোজা বা ধর্মীয় বিষয়ে কোনো ফয়সালায় এই মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত। অনেকটা বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মতো। আর কমিটিতে সেই গুজরাটি মেমনদেরই প্রাধান্য।

সে যা হোক। নামাজ পড়ে শরীর জুড়িয়ে বেরুচ্ছি মসজিদ থেকে। জুতা রাখার স্থানের কেয়ারটেকারের সাথে হালকা গল্প জুড়ে দিলাম জুতা মোজা পায়ে দেয়ার ফাঁকে।

তাকে বিদায় জানিয়ে পা দিলাম মসজিদের গেটের বাইরে। এক ৬০/৬৫ বছর বয়সী লোক মাটিতে বসে। ময়লা জামা, দুপায়ে বিশাল লম্বা ঘা। জিজ্ঞেস করে উঠলো, দাদা কি বাংলাদেশ থেকে এসেচেন? হ্যাঁ বলাতে আবার প্রশ্ন কোন জায়গা থেকে দাদা? বললাম, ঢাকার চকবাজার। চকচক করে উঠলো লোকটার চোখ চকবাজার শুনে। কলকাতার এক্সেন্ট বাদ দিয়ে খাঁটি ঢাকাইয়া ভাষায় বলে উঠলো, কন কি ভাই? আমি ভি তো চকের! মোলিবাজারের (মৌলভিবাজার) লগে ব্যাগমবাজার আমার বাড়ি। শুনে আমি জার্ক খেয়ে গেলাম!

বললাম, এখানে কি করেন? কতদিন ধরে আছেন? বললো, আমি এইখানেই থাকি, তিন বছর ধইরা আছি।
ততক্ষনে, আশপাশের দুই চার জোড়া কৌতুহলী চোখ আমাদের কথোপকথন অনুসরন করাটা টের পেলাম। সে অবৈধ ভাবে আছে নিশ্চিত। হয়তো দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসার কারনে এসে থেকে গেছে। বা অন্য কারনও থাকতে পারে। ক্ষনিকে সবদিক ভেবে চেপে গিয়ে কথা সংক্ষিপ্ত করলাম।

এমনিতেই কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর মুসলিম প্রধান এলাকাগুলোতে কিছুটা গুমোট পরিস্থিতি। তার মধ্যে দিল্লীর সাথে মমতার টানাপোড়েন। কোন কথায় কে বিপদে পড়ে, বলা কঠিন।

বিকাল প্রায় চারটা, পেট মস্তিস্ককে সিগনাল দিচ্ছে মোগলাই হোটেলের খোঁজে…

২৯.০৮.২০১৯

মাধ্যম
হুগলীর তীরে, হাওড়া ব্রীজে
ট্যাগ

এমন আরও সংবাদ

Back to top button
Close
Close