ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকেভ্রমণ

হুগলীর তীরে, হাওড়া ব্রীজে

কলকাতার পথে পথে

shakil hossen word bangla channelশাকিল হোসাইন: আর্দ্রতার কারনে পশ্চিমবঙ্গে অসহ্য গরম। প্রাচীন ভাগীরথীর তীরে কিছুক্ষন কাটিয়ে রওয়ানা দেয়ার মুহুর্তে নামলো সেই বৃস্টি।

কিছুটা থামার পর হেঁটে রওয়ানা দিলাম হাওড়া ব্রিজ পার হবো। ৭১ বছরের পুরনো বিশ্বের প্রথম ক্যান্টিলিভার ব্রিজ এটা। নদীতে কোনো পিলার নেই।

ঠিক মাঝপথে নেমে গেল ঝুম বৃস্টি। নেই ছাউনি। টানা একঘন্টা পিলারের আড়ালে আটকে চুপচুপে।

আমাদের পাশে এসে আশ্রয় নিলো একটা ঠেলা গাড়িসহ দুজন খেটে খাওয়া মানুষ। মাল ভিজে যাচ্ছে বলে একজন আরেকজনকে হিন্দিতে ঝাড়ছে। সাথে বাংলায় বহুল প্রচলিত গালি “বোকা*দা”! ওর মুখে ওই পরিস্থিতিতে আমি এ গালি শুনে আমি হো হো হাসিতে ফেটে পড়লাম।

জমে উঠলো গল্প ওই ৬০ বছর বয়সি সাড়ে চার ফুটের জামিলের সাথে। বাড়ী বিহারের পাটনা। ঈদের ছুটি কাটিয়ে মাত্র কাল ফিরলো বাড়ি থেকে। বড়বাজার থেকে অর্ডারি মাল ঠেলায় করে পৌছে দেবে গঙ্গার ওপাড়ে কোনো এক হোটেলে। খাসী কুরবানী, মহররম, পূজা, আরো কতো গল্প…

বৃস্টি ধরে এলে সেই বিশাল লোহার সেতুর দুদিকে যাত্রা দুপক্ষের। রইলো পড়ে পেছনে ক্ষনিকের পরিচিতি। সাথে নিয়ে এলাম আরেক টুকরো স্মৃতি।

অনেকে জিজ্ঞেস করে, আমি কেন বারবার কলকাতা যাই। কি আছে কলকাতায়? হয়তো ওপারের সাহিত্যগুলো পড়ে কল্পনায় যে ছবি দেখেছিলাম, তা ছুঁয়ে দেখতে। নয়তো বৈচিত্র্যময় নানান ভাষাভাষী মানুষ আর সংস্কৃতি আমার ভালো লাগে। অথবা শ্যাওলা ধরা ভিক্টোরিয়ান পুরনো বাড়িগুলোর সোঁদা গন্ধ আমায় টানে। কি জানি!

আসলে সব প্রশ্নের উত্তর নিজের কাছেও থাকে না।

ট্যাগ

এমন আরও সংবাদ

Back to top button
Close
Close