শিল্প সাহিত্য
Trending

স্বপ্ন বেঁচে থাকে কষ্টের মাঝে…….

আমি ছোটবেলা থেকে একটু অন্যরকম প্রাকৃতির। সমাজের আর আট, দশটা ছেলের মত আমার জীবন নয়। আমি নিরব থাকতে বেশি পছন্দ করি। আমি সবকিছু নিয়ে মনে হয় একটু বেশি ভাবি। আমি মানুষকে খুব অল্প হলেও সহায়তা করতে ভালোবাসি সেটা আমার জন্য কষ্টের কারন হলেও। কারো মুখে হাসি ফোটাতে পারলে মনে হয় আমার জন্মটা সার্থক হলো বুঝি। নিকট বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আমার মনের কথা খুলে বলতে কোনো সমস্যা মনে করিনা। খুব সহজে মানুষকে আপন ভেবে ফেলি যার জন্য মাঝে মাঝে তার মাশুলও দিতে হয় আমাকে। আমি কারো নোংরা কথার উত্তর নোংরা ভাষায় দিতে পছন্দ করিনা। আমি কারো সাথে খারাপ ব্যবহার মোটেই পছন্দ করিনা। আমি সবসময় হাসি মুখে কথা বলতে পছন্দ করি।

কোনো কাজ শুরু করতে গিয়ে যদি নিজ থেকে মনে হয় কাজটা আমার জন্য ঠিক হবে তবেই করি। আমি কারো বাধানিষেধ পছন্দ করিনা কারণ আমি বিশ্বাস করি যদি একটা মানুষ নিজ থেকে ভালো পথ অনুসরণ না করে তাকে শত চেষ্টা করেও ভালো পথে নিয়ে আসা সম্ভাব নয়। আমি যেটা ভালো মনে করি সবসময় তাই করার চেষ্টা করি। লিখালিখির প্রতি আমার অন্যরকম একটা সখ আছে কিন্তু ভাল লিখতে পারি না। আমার ভালো লাগা, খারাপ লাগা, স্মৃতিময় প্রতিটি মুহূর্ত ডায়েরীর পাতায় নোট করা ছিল আমার ছোটবেলার অভ্যাস। কিন্তু বড় হতে হতে ভাটা পরেছে সেই অভ্যাসে!

আমি এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। প্রতিদিন আমাকে নিজের সাথে যুদ্ধ করে মনোবল ধরে রাখতে। তারপরেও মাঝে মাঝে খুব একা হয়ে পরি, মনে হয় এই পৃথিবীর আলো বাতাস আমার জন্য নয়। আমার মত সাধারণ একটা ছেলের জন্য স্বপ্ন দেখাটাও যেন এক প্রকারের পাপ। তবে হ্যা! এটা সত্যি আমি এক সময় নিজেকে নিয়ে অনেক বড় বড় স্বপ্ন দেখতাম। স্বপ্ন বাস্তবায়নের সর্বাত্মক চেষ্টাও করতাম।

কিন্তু আমার স্বপ্ন ভাঙার শুরুটা হয় তখন, ২০০৮ সনে যখন আমি মাধ্যমি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করি। তারপর মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে যখন উচ্চমাধ্যমিকে দিকে মুখ ফিরে তাকালাম ঠিক তখন পিছন ফিরে দেখি অামার পারিবারিক অর্থনৈতি অবস্থা কিছুটা ভঙ্গুর, তাই সিদ্ধান্ত বদলে একটি প্রাইভেট কলেজে কৃষি নিয়ে ডিপ্লোমা করতে হয়েছিল আমাকে। যেটা আমি কখনো প্রত্যাশা করিনি। একটা সময় ভাগ্যকে মেনে নিয়ে সামনে একটু একটু করে এগিয়েছি সময়ের সাথে। কিন্তু সেটাও খুব ভালো হলনা আমার। ব্যর্থতা আর কষ্ট আমার জীবনটাকে প্রতিনিয়ত করে তুলছছে বিষাক্তময়। স্বপ্ন ভাঙার কষ্ট একটা মানুষের জীবনটাকে কিভাবে নষ্ট করে দিতে পারে তা শুধু তাই বুঝেন যারা এর সম্মুখে পরেছিলেন! এটা সত্যি, স্বপ্ন ভাঙার কষ্টের জন্য কয়েকবার এই ধরনী ছেড়ে চলে যাওয়ার চেষ্ট করছিলাম।

মাঝেমাঝে ভাবনায় খুব বিভোর হয়ে পরি, তখন নিজের কাছে প্রশ্ন জাগে জীবনটা কেনো এতটা বৈচিত্র্যময়? ছোটবেলা থেকে এমন কোনো কাজ করিনি যেটা আমার পরিবার, সমাজ, দেশের জন্য ক্ষতিকর। প্রতিটা ক্ষেত্রে ছিলো আমার সততার প্রতি একটা আকর্শন। যেটা এখনো আছে।

সত্যি বলতে একটা সন্তান কেমন হবে? তা অনেকাংশ নির্ভর করে তার পরিবারের সাপোর্ট এর উপর। হ্যা! আমি এটা অস্বীকার করবনা যে, আমি পরিবারের সাপোর্ট পেয়েছি। কিন্তু যতটা সাপোর্ট পেয়েছি তা আমার স্বপ্ন বাস্তবায়নের তুলনায় ছিলো খুবই সামান্য। আমার পরিবার তাদের নিজেদের মতামত প্রাধান্য না দিয়ে যদি আমার কথাগুলো একবার বোঝার চেষ্টা করতো আমি কোনটা চাই তাহলো হয়তো আমার জীবনটা আরো অনেক সুন্দর হতে পারতো।

জানিনা কতদূর আমার পক্ষে পাড়ি দেওয়া সম্ভাব হবে। তবে ব্যর্থতাকে জীবনের একটা অংশ হিসেবে ধরে নিয়ে একটু একটু করে সামনের দিকে এগিয়ে চলছি। এমন একটা মানুষ হতে চাই, যাকে যত নির্মম পরিস্থিতির মাঝে ফেলে দেওয়া হোকনা কেনো, সেখান থেকে যেনো বের হয়ে আসতে পারি। স্বপ্ন বা লক্ষ্য বলতে এখন আমি বুঝি মানুষের মত মানুষ হওয়া। আর এখন আমি বুঝি, “সততাকে নিজের ভিতর অটুট রেখে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করে, সকল অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে দূরে রেখে, মানব জীবন পাড়ি দিতে পারাটাই জীবনের আসল লক্ষ কিংবা হওয়া উচিৎ”।

 

জে এম অালী নয়ন-

০২/০৭/২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ

এমন আরও সংবাদ

Back to top button
Close
Close