দেশজুড়ে

কাহারোলে অসহায়-দিনমুজুর সুমিত্রা রানী রায়ের পাশে কেউ নেই, জ্বরাজ্বীর্ণ ঘরে বসবাস পরিবার-পরিজন নিয়ে

কাহারোল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ঃ কাহারোলে অসহায় ও দিনমুজুর সুমিত্রা রানী রায়ের পরিবারটি সকল প্রকার সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলেও দেখার কেউ নেই। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের (কাহারোল-সেতাবগঞ্জ) যাওয়ার পাকা রাস্তা সংলগ্ন চন্ডিপুর গ্রামে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন অসহায় ও দিনমুজুর সুমিত্রা রানী রায়। তার পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকলেও সরকারি কোন দপ্তর বা সমাজের বৃত্তবানদের চোখে পড়ে না অবহেলিত পরিবারটির দিকে। ১৮ মে’১৯ শনিবার সকাল ১১ টার দিকে অত্র এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, দিনমুজুর সুমিত্রা রানী রায়ের পরিবারে সদস্য সংখ্যা স্বামী সহ ৫ জন রয়েছে। কিন্তু এই ৫ জন সদস্যের মধ্যে একমাত্র অর্থ উপার্জনকারী বিধবা বড় মেয়ে ও মা সুমিত্রা রানী রায়। অন্যের বাড়িতে ও ক্ষেতখামারে কাজকর্ম করে যে অর্থ উপার্জন করেন তা দিয়ে সংসার পরিচালনা করে আসছেন অত্যান্ত কষ্টের মধ্য দিয়ে। ছোট মেয়ে লেখাপড়ার খরচ চালাতে হয় উপার্জনের পয়সা দিয়ে। দেখা গেছে, সুমিত্রা রানী রায়ের শোয়ার ঘর বলতে কিছুই নেই। যে ঘরটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি রাত কাটান, সেই ঘরটি ভাঙ্গা চুড়া ও টিনের চাল, টিনের বেড়া এবং রান্না ঘরটিও একই অবস্থা। হঠাৎ করে বাতাস বইলে ও বৃষ্টি পড়লে ঘরের চাল দিয়ে ঘরের মেঝেতে বৃষ্টি পানি পড়তে থাকে। জ্বরাজ্বীর্ণ এই ঘরটি মেরামতের অর্থও তাদের কাছে নেই। এই অসহায় পরিবারটি সরকারি রাস্তাঘাট ও হাট-বাজার ব্যবহার ছাড়া অন্য কোন সরকারি সাহায্য সহযোগিতা অদ্যাবধি মিলেনি ঐ পরিবারটিতে। অত্যান্ত কষ্টের মধ্য দিয়ে দিনমুজুর সুমিত্রা রানী রায় দিন অতিবাহিত করলেও এবং একটি সরকারি ঘর পাওয়ার আশায় কিছুদিন পূর্বে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবরে আবেদন করলেও সেই পরিবারটির ভাগ্যে জুটেনি সরকারি বরাদ্দের ঘর। ঐ অবহেলিত পরিবারটিকে একটি ঘর বরাদ্দের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাসিম আহমেদ কে মৌখিক ভাবে অবগত করলে তিনি জানান, “যার জমি আছে, ঘর নাই” প্রকল্প মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে যে ৪ শতটি ঘর নির্মাণের জন্য অত্র উপজেলায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সেই তালিকায় সুমিত্রা রানী রায়ের নাম না থাকার কারণে ঐ পরিবারটিতে সরকারি ঘর নির্মাণ করে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি জানান। তবে (কাহারোল-সেতাবগঞ্জ) যাওয়ার পাকা রাস্তা সংলগ্ন সুমিত্রা রানীর পরিবারটি বসবাস করায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ আমিনুল ইসলাম সুমিত্রা রানী রায়ের পরিবারে যায় এবং সরেজমিন তদন্ত করেছেন ও সরকারি ঘর পাওয়ার একমাত্র দাবিদার ঐ অবহেলিত পরিবারটি বলে তিনি জানান। এদিকে সুমিত্রা রানী রায় এই প্রতিনিধিকে জানান, হামার কাহোয় নাই, একমাত্র ভগবান ছাড়া। এত কষ্ট করিয়া সংসার চালাছু সরকারি মানুষলা হামারতিনা দেখে না। ঐ যাহারলার আছে, অমারল্লাকে বেশি করে দেছে সরকারি চাউল-ডাউল, ঘর-বাড়ি করিয়া।

এমন আরও সংবাদ

Back to top button
Close
Close