রাজিবপুর

স. প্রাথমিক ছেড়ে যেন শিশুরা কেজি স্কুলের দিকে না দৌড়ায়:মন্ত্রী

স. প্রাথমিক ছেড়ে যেন শিশুরা কেজি স্কুলের দিকে না দৌড়ায়:মন্ত্রী

শফিকুল ইসলাম, রাজিবপুর, (কুড়িগ্রাম)

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া লেখা ছেড়ে, আমার শিশুরা যেন কেজি স্কুলের দিকে না দৌড়ায় ,সেদিকে আপনারা খেয়াল রাখবেন। আপনারা কেজি স্কুলের চেয়ে ভালভাবে শিশুদের যত্ন নিয়ে লেখা পড়া শিখিয়ে মানুষের মত মানুষ করে তুলবেন। আমি আপনার দিকে নজর রাখব। আপনাদের সকল দাবী দাওয়া আমি, আমার মন্ত্রী পরিষদ ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সাথে আলাপ-আলোচনা করে পূরন করার চেষ্টা করব। আমি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এমপি হয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী  শেখ হাসিনা আমাকে প্রাথমিক ও গনশিক্ষা  প্রতিমন্ত্রী বানিয়েছেন।

আমি আমার মন্ত্রীত্ব আপনাদের অর্থাৎ আমার রাজিবপুর ও রৌমারী প্রাথমিক শিক্ষকদের মাঝে উৎসর্গ করে দিলাম। আপনারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবেশ ফিরিয়ে এনে  রাজিবপুর-রৌমারীকে একটি মডেল হিসেবে আমাকে ও আমার সরকারকে  উপহার  দিবেন। এই মডেল সরকারি প্রাথমিক গুলো যেন দেশের অন্যান্য প্রাথমিক বিদ্যালয় অনুসরণ করে চলে। রোববার  বিকাল সাড়ে ৫টায় রাজিবপুর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রাজিবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে প্রান ঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের  মাননীয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী  জাকির হোসেন এমপি কথা গুলো বলেন। তিনি আরও বলেন আগে আপনারা ৫শত টাকা  বেতন পেতেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার আপনাদের চাকুরী সরকারি করেছেন। প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকদের গ্রেড ও বেতন স্কেল বৈষশ্য রয়েছে। এটি সরকার দেখবে। আমি বন্যা ও নদী ভাঙ্গা এলাকার জন্য এমন গৃহ নির্মাণ করব, যেটি সহজেই স্থান্তরিত করা যাবে। আর মহিলা শিক্ষকদের উদ্দেশ্য  মাননীয় প্রতিমন্ত্রী  বলেন আপনাদের সন্তানদের মত  স্কুলগামি সকল শিশুদের সন্তানের মত লানন পালন করবেন। আপনারা সময় মত বিদ্যালয়ে যাবেন।  কেউ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। আপনারা ফাঁকি দিলে আমার নেতারা আপনাদের দেখবে। আমি রাজিবপুর ও রৌমারী শিক্ষকদের সুবিধার্থে রৌমারীতে পিটিআই সেন্টার স্থাপন করার চেষ্টা করছি। অচিরেই এটি হযে যাবে। মাননীয় মন্ত্রী আসবে বলে গত ২দিন থেকে রাজিবপুরের প্রাথমিক শিক্ষক সমাজ ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। রোরবার বেলা ২টা থেকে শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে ও রাজিবপুর উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকেন। প্রতিমন্ত্রী মহোদয় রাজিবপুরে পৌছলে শিক্ষক সমাজ ফুলের মালা দিয়ে তাকে বরণ করে নেন। পরে রাজিবপুর উপজেলা নিবার্হী  কর্মকর্তা মো: মেহেদী হাসান এর সভাপতিত্বে বিকাল ৩টার ওই  শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন  অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন রাজিবপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জননেতা শফিউল আলম, কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায়,রাজিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার  আব্দল হাই সরকার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিস বেগম, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আকবর হোসেন হিরো, রাজিবপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও জেলা পরিষদ সদস্য আলহাজ¦ আজিম উদ্দিন, জেলা পরিষদ মহিলা সদস্য রাজিয়া সুলতানা রেনু, বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সভাপতি মমিনুল ইসলাম মিন্টু,টাঙ্গারিয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আবু এনাছ, মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম, চরনেওয়াজি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক তারেক মো: জিয়াউর ইসলাম,মমতাজ খাতুন,আব্দুল সালাম প্রমুখ। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে মানপত্র পাঠ করে শোনান রাজিবপুর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক কামরুন্নাহার,কোরআন তেলওয়াত করেন সহকারি শিক্ষক আবদুর রহিম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন রাজিবপুর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিপ্লবী আক্তার বিথি। বক্তারা সবাই রাজিবপুরকে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা, ঢাকাার সাথে রেল যোগাযোগ ও রাজিবপুরের একমাত্র মহিলা কলেজটিকে এমপিওভুক্ত করার দাবী জানান।  অনুষ্ঠান শেষে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী রাজিবপুর মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে তিনি রাজিবপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্য রওয়ানা হন।

এমন আরও সংবাদ

Back to top button
Close
Close