গণমাধ্যমফেসবুক স্ট্যাটাস থেকেমতামত

এখনো চিঠি আসে। হলুদ নয়, সাদা খামের চিঠি।

লুৎফর রহমান হিমেলTo-
Mr. Lutfor Rahman Himel
Editor
Poriborton.com
গত পরশুই বাসায় এলো চিঠিটি। প্রাপকের নাম ঠিকই আছে। ঠিকানাও ঠিক আছে। শুধু পদবীটায় সাবেক লেখা থাকলেই হতো।
ভুল করে চিঠিগুলো আসে। কারণ, আমি ত আর পরিবর্তনে নেই। সত্যিই কি আমি পরিবর্তনে নেই? পরিবর্তন ত আমার সন্তান তুল্য। সন্তান কি সাবেক হয় কখনো? যেখানেই থাকুক, যার ঘরেই থাকুক; সন্তান ত সন্তানই। তাই চিঠিগুলো এলে আমি বলি না যে ভুল ঠিকানায় এসেছে।

পরিবর্তন আমার এবং আমাদের ছোট্ট একটি টিমের হাতেই আলো ছড়িয়েছিল দেশ-বিদেশে। এক বছরের মধ্যে দেশের তৃতীয় শীর্ষ জনপ্রিয় নিউজ পোর্টালে পরিণত হয়েছিল তখন। এরকম সাফল্য এর আগে বা এখনো কেউ পায়নি। তখন মাসে সাকুল্যে আমরা ৭-৮ লাখ টাকা ব্যয় করতাম। এতে যে সাফল্য আমরা পেয়েছিলাম, অনেক পোর্টাল তখন মাসে ২০-৩০ লাখ টাকা খরচেও তা করতে পারেনি।

দেশের নিউজ পোর্টাল জগতের অনেক কিছুরই সংজ্ঞা আমরা বদলে দিয়েছিলাম। পরিবর্তন নামটার সাথে সস্তা টোয়েন্টিফোর ( 24) আমরা বর্জন করে যাত্রা শুরু করেছিলাম। অনলাইন পোর্টাল মানেই ত চব্বিশ ঘন্টার মনিটরিং। ফলে টোয়েন্টিফোর উল্লেখ করাই বরং বাহুল্য। অথচ তখন যারা চার ঘন্টার বেশি আপডেট দিতে পারতো না, তারাও হরহামেশা টোয়েন্টিফোর লিখত। এখনও লেখে।

আমরাই প্রথম ‘হালনাগাদ সময়’ সাইটে যুক্ত করেছিলাম। এরপর সবাই একে একে হালনাগাদ যুক্ত করেছে। কঠোরভাবে নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করেছিলাম। তখন শাহবাগ চত্বর ও মতিঝিলের শাপলা চত্বর- এই দুই চত্বরই ছিল উত্তাল। কিন্তু আমরা সেই কঠিন পরিস্থিতিতেও সাংবাদিকতার সতীত্ব (দুঃখিত, শব্দটি আমার নিজেরও পছন্দ নয়, শুধু নৈতিকতার কথা বুঝাতে প্রতীকী অর্থে ব্যবহার করলাম।) রক্ষায় আপোষহীন থেকেছিলাম।

ছোট টিম, কিন্তু বাইরের অনেকে তখন মনে করতো আমাদের সাথে আছে এক-দেড়শ সাংবাদিক-কর্মী। এই ক্যামুফ্ল্যাজটা তৈরির জন্য প্রচুর কোয়ালিটি নিউজ করতে হয়েছে ছোট্ট টিমটিকে। আমি শুধু গাইড করেছি মাত্র। ফলে তখন ডয়চে ভেলে, বিবিসিতে আমাদের নিউজের রেফারেন্স ব্যবহৃত হয়েছিল। গ্রহণযোগ্যতার সামাণ্য অর্জনের জন্যই হয়তোবা। …

লুৎফর রহমান হিমেল

এমন আরও সংবাদ

Back to top button