দেশজুড়ে

কাহারোলে আগাম জাতের আলু চাষাবাদ দাম পেয়ে কৃষক খুশি।

কাহারোল (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ “এখন আগাম আলু করছি, এর পর গম তার পর আউস ধান চাষ করবো। বছরে অন্তত তিনটি ফসল চাষাবাদ করি একই জমিতে। কোনো বার চারটি ফসল ও চাষ করি। গত বছর আগাম জাতের আলু চাষাবাদ করে ভাল দাম পেয়েছিলাম। এবারও আশা করছি”। কথা গুলো বলেন দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের কাজিকাটনা গ্রামের কৃষক মোঃ জহিরুল তিনি ১ বিঘা জমি আগাম জাতের আলুর বীজ রোপন করেছেন তিনি। ১০ জন শ্রমিক নিয়ে জোরে সোরে তার জমিতে চলছে আলু রোপনের কাজ করেছেন। একই ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের মোঃ মফিজুল ইসলাম জানান, গেনলা জাতের আলু রোপন করার ৬০ দিনের মধ্যে আলু উঠিয়ে বিক্রি করা যায় হাট-বাজারে। আলু তোলা পর্যন্ত ১ বিঘা জমিতে ১০-১২ হাজার টাকা খরচ হলোও ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ যায় আলু বিক্রি করে। অন্যদিকে, আগাম আলূ উৎপাদনই নয়, অসময়ে কাজ করতে পেরে খুশি নয়াবাদ গ্রামের পারুল রানী রায়। দৈনিক মুজুরি হিসাবে ১৮০ টাকায় হাজিরা কাজ করছেন জমিতে। তিনি বলেন “এই সময়ে কাজ থাকেনা। আগাম আলু চাষের কারণেই বসে থাকতে হচ্ছে না। প্রতিদিনেই কাজ করা যাচ্ছে। সংসারও চলছে ভালোই। আগোত এই সময়টা বসে থাকতে হয় বলে মন্তব্য করেন আরেকজন মহিলা শ্রমিক বিউটি রানী রায়। শুধু বিউটি নয় মাঠে দল বেঁধে কাজ করছেন অন্যানা, মেনকা রানী রায়, মিনা রানী রায়, অতুল চন্দ্র রায় সহ ১০/১২ জন শ্রমিক। উপজেলার রামচন্দ্র পুর ইউনিয়নের কাজী কাটনা গ্রামের আর এক কৃষক শাহাজান মিয়া জানান, এ বছর আগাম জাতের আলুর বীজের দাম অন্য বছরের তুলনায় বেশী হলেও বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি আলু ২৬টাকা দরে টাকা বিক্রি করছি। সারের কোন সমস্যা নেই। প্রতি হেক্টরে ১৬-১৭ মেঃ টন আলু উৎপাদন হবে আশা করা যায়। সটিক সময়ে আলু উঠিয়ে বাজারে বিক্রি করতে পারলে প্রতি কেজি আলু অন্তত ২৭টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে বিঘা প্রতি ৩৫ হাজার টাকার মত মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হবে। আলু চাষ হয়ে থাকে মন্তব্য করে কৃষক হাসিম উদ্দিন ও প্রদীপ চন্দ্র রায় বলেন দিন দিন আলু চাষীর সংখ্যা বাড়ছে কাহারোল উপজেলায়। এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু জাফর মোঃ সাদেক জানান, আগাম জাতের আলু চাষাবাদের ক্ষেত্রে আবহওয়া অনুকুলে রয়েছে। আলু বীজ রোপনের ৫৫দিন পর থেকেই আলু উঠানো যায় জমি থেকে। এখানকার আগাম আলু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। যার ফলে ভাল দাম পেয়ে থাকে কৃষকরা খুশি। গেনুলা জাতের আগাম আলুর বীজ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৩৫০ হেক্টের জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের উদ্ধুদ্ধকরণসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শে লাভ বান হচ্ছেন আলু চাষীরা।

এমন আরও সংবাদ

Close
Close