আন্তর্জাতিক

৪২ টি এনজিও’র সতর্কবার্তা

শরণার্থীদের এই মুহূর্তে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ

Hur E Zannat৯ নভেম্বর ২০১৮: বাংলাদেশ সরকার ও মিয়ানমার সরকারের সমন্বয়ে গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের গত ৩০ অক্টোবরের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার খবরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য ও বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কর্মরত মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাসমূহ ও সুশীল সমাজ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সরকার শরণার্থী ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিশ্চয়তা দিয়েছিল যে, প্রত্যাবাসন হবে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ। আমরা উভয় দেশের সরকারকেই তাদের নিজ নিজ প্রতিশ্রুতির প্রতি অবিচল থাকার অনুরোধ করছি।

জাতিসংঘ বার বার বিবৃতি দিয়েছে যে, এই মুহুর্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি শরনার্থী প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত নয়। শরণার্থীদের মিয়ানমার ত্যাগ এখন অব্যাহত রয়েছে, তাই এই মুহূর্তে প্রত্যাবাসন শুরু করা সময়োচিত হবে না। মিয়ানমারে শরণার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তা যেহেতু এখনো মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন, সে পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে শরণার্থীদের অস্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন আন্তর্জাতিক নন-রিফাউলমেন্ট মূলনীতির লঙ্ঘন।

শরণার্থীরা আমাদের বারবার বলেছে যে, তারা তাদের বসত ভিটায় এবং জন্মস্থানে, অথবা তাদের নিজেদের পছন্দমত জায়গায় ফিরে যেতে চায়। ফিরে পেতে চায় সমঅধিকার ও নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা। তারা নিশ্চয়তা চায় যে, তাদের উপর চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাধ্যমে যে অমানবিক ঘটনা ঘটেছে তা বন্ধ হবে এবং যাদের অত্যাচারের কারণে তারা দেশ ত্যাগে বাধ্য হয়েছিল তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। তারা পুনরায় সেই পরিস্থিতির মধ্যে ফিরে যেতে চায়না, যেখানে তাদের স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার অথবা জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাওয়ার কোন সুযোগ থাকবেনা। তারা আশঙ্কা করছে যে, এই পরিস্থিতি স্থায়ী রুপ পাবে, যেভাবে কেন্দ্রীয় রাখাইন রাজ্যে  গত ছয় বছর ধরে ১,২৮,০০০ রোহিঙ্গা ও অন্যান্য মুসলিম স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার হারিয়ে বিভিন্ন ক্যাম্পে এক প্রকার অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন যাপন করছে।

অধিকাংশ শরণার্থী আমাদেরকে তাদের ভীতির ব্যাপারে অবহিত করেছে। তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল নিরাপত্তার জন্য এবং তাদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।  তবে এখন তাদের ভীতি ও আশঙ্কার অন্যতম কারণ হল, তারা জানেনা যে, মিয়ানমারে ফিরে গেলে কি ঘটতে পারে এবং তারা অত্যন্ত সীমিত ও অসম্পূর্ণ তথ্য পাওয়ায় খুবই উদ্বিগ্ন।

“আমরা অবশ্যই ফিরে যেতে চাই, কিন্তু নাগরিকত্ব ছাড়া নয়। তাদেরকে অবশ্যই আমাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে, এবং মিয়ানমারে বসবাসরত অন্যান্য মানুষের মত আমাদেরকেও স্বাভাবিক জীবন যাপনের অধিকার দিতে হবে। আমদেরকে অবশ্যই শান্তিতে থাকতে দিতে হবে, সহিংসতা নয়।

মিয়ানমারে আমার একটা ভাই আছে। তারা এখনো ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারেনা। তারা এখনও ভয় পায় যে, হয়ত ঘুমের মধ্যেই তাদেরকে মেরে ফেলা হবে। এখানে আসার পর, আল্লাহ ও বাংলাদেশ সরকারের দয়ায় আমরা শান্তিতে ঘুমাতে পারছি। কিন্তু আমার ভাই, সে এখনও ঘুমাতে পারেনা।’’  [ একজন রোহিঙ্গা মহিলা শরণার্থীর বক্তব্য]

যেহেতু জাতিসংঘের সংস্থা হিসেবে ইউএনএইচসিআর শরণার্থীদের সুরক্ষার ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত, তাই  ইউএনএইচসিআর’কে অবশ্যই একটি সু-সংগঠিত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে; বিশেষত, প্রত্যাবাসনের উদ্দেশ্য, সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে হালনাগাদ ও নির্ভুল তথ্য  তাদের প্রাসঙ্গিক ভাষায় ও ফরম্যাটে শরণার্থীদের দিতে হবে যাতে তারা মিয়ানমারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে করে এবং অবহিত হয়ে স্বাধীনভাবে ও স্বেচ্ছায় ফিরে যাবার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে ।

আমরা বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারকে তাদের প্রতিশ্রুতিতে অবিচল থাকার আহ্বান করছি, এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের জন্য স্বাধীনভাবে ও পছন্দমত উপায়ে ফিরে যাওয়া এবং রাখাইন রাজ্যের বিদ্যমান পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার আহ্বান করছি। এই রকম তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘের সংস্থাসমূহকে রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বাধাহীন যাতায়াতের সুযোগ দিতে হবে।

ট্যাগ

এমন আরও সংবাদ

Close
Close