নারী ও শিশু

নারী ও ক্ষমতা

নারী ইচ্ছে করলে পুরুষের জন্য জান্নাতের দরজা হতে পারে, আবার ইচ্ছে করলে জাহান্নামের দরজাও হতে পারে।
আমাকে যদি কেউ প্রশ্ন করে- নারীর সবচাইতে বড় ক্ষমতা কোনটা? আমি বলব পুরুষের উপর তার বিস্ময়কর প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা। পুরুষের যদি থাকে শৌর্য, নারীর আছে মমতা। পুরুষের যদি থাকে রক্তসাগর পাড়ি দেওয়ার নেশা, নারীর আছে প্রেম। এই মমতা, এই প্রেম নারীকে পুরুষের উপর শক্তিশালী করেছে। সে উদ্দীপনা দিতে পারে, আবার প্ররোচনাও দিতে পারে। পুরুষের জ্ঞান, বুদ্ধি, শক্তি- যা কিছু আছে সবকিছুকে সে বিপথে চালিত করতে পারে, সুপথেও চালিত করতে পারে। এজন্যই বোধহয় রসুল বলেছেন, মুত্তাকী অর্থাৎ ন্যায়নিষ্ঠ স্ত্রী হচ্ছে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
শ্রেষ্ঠ সম্পদই বটে! কারণ একটি শান্তিময় সমাজ কিংবা পরিবার পেতে পুরুষকে সত্যিকার অর্থেই নারীর কৃপার কাঙাল হয়ে থাকতে হয়। কেননা এ ক্ষেত্রে শান্তির চাবিকাঠি ন্যস্ত থাকে নারীর হাতে!
নারী মমতাময়ী, স্নেহ-ভালোবাসায় পরিপূর্ণ তার হৃদয়। সে পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও মায়াবী। এই গুণগুলো তাকে অর্জন করতে হয় না, জন্মগত ভাবেই সে লাভ করে থাকে। যখন সে ন্যায়ের প্রতি নিষ্ঠাবান থাকে তখন তার এই গুণগুলো পরিবার ও সমাজের জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনে। ফুলের পাঁপড়ি যেভাবে বৃন্তের সাথে একীভূত থাকে সেইভাবে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যকে সে তার মমতার বন্ধনে বেঁধে রাখে। প্রেমের সৌরভ ছড়িয়ে পড়ে প্রত্যেকের অন্তরে, পরিবার হয়ে ওঠে জান্নাতের বাগান। জান্নাতের বাগানে তো আর যাক্কুম বৃক্ষের জন্ম হবে না, সেখানে জন্মাবে জান্নাতের বৃক্ষ। শান্তির সৌরভ ছড়িয়ে আছে যে পরিবারে, সেখান থেকে যে নতুন প্রজন্ম বেড়ে ওঠে তার দ্বারা জগত উপকৃত হয়, আলোকিত হয় সমাজ, সভ্যতা।

অন্যদিকে নারী যদি ন্যায়নিষ্ঠ না হয় তাহলে তার বিস্ময়কর মমতার শক্তি কার্যত অভিশাপ হিসেবে আবির্ভুত হয়। একটি পরিবার অশান্তির আগুনে জ্বলতে থাকে কেবল একজন হিংসুটে, গীবতকারী, স্বার্থপর নারীর কারণে। সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পরিবার থেকে সমাজে, সমাজ থেকে জাতিতে। ছড়িয়ে পড়ে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে।

Close
Close