স্বাস্থ্য

হরিজন সম্প্রদায়ের শিশু স্বাস্থ্য

 

সুমন কুমার দাস, কমিউনিটি ফেলো (রেডিও সারাবেলা)

হরিজন বা দলিত শব্দটির বর্তমানে প্রচলন হলেও দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠির কাছে মূলত এদের পরিচয় মেথর বা সুইপার হিসেবে। কর্ম ক্ষেত্রে পিছিয়ে পরা এ জনগোষ্ঠি জীবন জীবিকা নির্বাহের তাগিদে বেছে নিয়েছে গ্রামের ল্যাট্রিন পরিষ্কারের কাজ, মেয়েরা করছেন হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিষ্কার। শুধু বড়রাই নয় বেঁচে থাকার লড়াইয়ে কাজ করছেন শিশুরাও। কোনো প্রকার নিরাপত্তা ছাড়াই এ কজ করে আসছে গাইবান্ধা জেলার হড়িজন সম্প্রদায়ের কিছু শিশু। ফলে স্বাস্থ্য হীনতার সাথে আক্রান্ত হচ্ছে টিবি রোগ, চুলকানি, পাঁচরা, নিউমোনিয়া সহ বিভিন্ন রোগে। গাইবান্ধা জেলার সাতটি উপজেলাসহ সদরেও লক্ষ করা যায় ল্যাট্রিন পরিষ্কারের কাজ করছে হরিজন শিশু। আমাদের কথা হয় ১২ বছরই শিশু অনিল ও রানির সাথে। তারা জানায়, টাকার জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছি। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে বমি বমি ভাব, পেটে ব্যথা, পাতলা পায়খানা হয়। তাও বাদ দিতে পারি না। টাকা না নিয়ে বাসায় ঢুকলে পরিবারের সবাই রাগ করে। শিশুরা কেন এ কাজ করছে কিংবা করানো হচ্ছে-এ ব্যাপারে জানতে চেয়েছিলাম অভিবাক মেঘা ও পারুলের কাছে। এসময় অভাবের তাড়না ছেলেমেয়েদের সাথে নিয়ে কাজ করানোর কথা জানায়।  এমতাবস্থায় এ শিশুরা কোন কোন রোগে আক্রান্ত  হতে পারে এ বিষয়ে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের জুনিয়র কন্সাল্টেন্ট ডা: আবাল কালাম আজাদ বলেন, টিবি, চুলকানি, পাচঁড়া নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হতে পারে শিশুরা। একই সাথে এসব রোগ থেকে পরিত্রান পেতে কাজের সময় গ্লোবস, এ্যাপ্রন ও জুতা পড়ার পরামর্শ দেন তিনি। এ সম্প্রদায়ের জন্য শিক্ষা স্বাস্থ্য সচেতনতার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারিভাবে কর্মসংস্থান বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠি অধিকার আন্দোলনের গাইবান্ধার সাধারন সম্পাদন রাজেশ বাশঁফোড়। এব্যপারে সরকারিভাবে পদক্ষেপ গ্রহন করার কথা বলেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল। একই সাথে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর কথা বলেন তিনি।

 

এমন আরও সংবাদ

Back to top button