রাজারহাট

উন্নত রাজারহাট গড়তে চাই ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস

নাজমুল হুদা সুমননাজমুল হুদা সুমন: বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে দেশ। দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে বিভাগ,জেলা,উপজেলাগুলো। বিশ্বের সাথে সব দেশ যেমন সমান তালে এগুতে পারেনা ঠিক একটি দেশের সব বিভাগ, জেলা আর উপজেলাগুলোও সমানভাবে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনা। আমাদের দেশের কোনো বিভাগ অনেক উন্নত আবার কোনো বিভাগ একেবারে নাজুক। তবে দেশের উন্নয়ন বলতে অবশ্যই সামষ্টিক উন্নয়ন বুঝাবে। তাই একটি দেশের স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে ছোট প্রশাসন ওয়ার্ড পর্যায় থেকেই উন্নয়ন শুরু করতে হবে। ওয়ার্ড উন্নত হলে ইউনিয়ন,ইউনিয়ন হলে উপজেলা,উপজেলা হলে জেলা এভাবে বিভাগ আর এভাবেই একটি দেশের সব বিভাগ উন্নত হলে গোটা দেশ উন্নত হবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে অবহেলিত এবং অনুন্নত বিভাগ হলো রংপুর বিভাগ। এই বিভাগের ৮ টি জেলার মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলার অবস্থা খুবই নাজুক। শিক্ষা,যোগাযোগ,কৃষিসহ প্রায় সব খাতেই অন্যান্য জেলার তুলনায় কুড়িগ্রাম অনেক পিছিয়ে। আর কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা আরও পিছিয়ে অন্যান্য উপজেলার তুলনায়।
আর এর কারণ বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হবে এই উপজেলাটির সংসদীয় আসন কুড়িগ্রাম-২ এর সংসদ সদস্যদের অবহেলার কথা। আমার বোধ হওয়ার পর কয়েকটি জাতীয় নির্বাচ দেখার সুযোগ হয়েছে। এই আসনটি থেকে এমপি হয়েছেন-জাতীয় পার্টির হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ,তাজুল ইসলাম আর আওয়ামীলীগের জাফর আলী।
আমার জানামতে এই তিনজনই রাজারহাটের দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি। এই মাননীয় সংসদ সদস্যরা নির্বাচনের সময় যেভাবে এই উপজেলায় সময় দেন তার ১০০ ভাগের ১ ভাগ সময়ও দেননা উপজেলাটির উন্নয় নিয়ে। ২ একটা দলীয় কর্মসূচী ছাড়া কখনও উপজেলায় পা দেয়ারও চিন্তা করেননা।
এরপর আসা যাক উপজেলা চেয়ারম্যানদের আমলনামা নিয়ে। যতটুকু জানি এবং বুঝি উপজেলা চেয়ারম্যানরা টিআর,কাবিখা আর ন্যাশনালের চাকুরী নিয়েই অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন। বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান হাসেম আলী আসার পর তেমন কোনো কাজই করেননি। বিশেষ করে বিএনপি থেকে আসায় তার কাজ করার সুযোগও অনেক কম।
এই উপজেলাটির নির্বাহী কর্মকর্তারা আসেন কিছুদিনের জন্য। তাদের মধ্যে যারা ভাল কাজ করতে আগ্রহী হন তারা খুব বেশিদিন টিকে থাকতে পারেননা। উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য অফিসাররা যে যার মত নিজেদের পেট নিয়েই ব্যস্ত। কেউ আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের পায়তারাও করেন ফ্যাসাদ তৈরি করে দিয়ে।
উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের মধ্যে যেমন একবারে অশিক্ষিত মূর্খ রয়েছেন তেমনি আছেন সন্ত্রাসীও। চেয়ারম্যান হওয়ার পর রিলিফের টাকা আর গমের বস্তা চুরীতেই ব্যস্ত থাকেন তারা। যেকারণে উপজেলার মানুষের উন্নয়ন নিয়ে ভাববার সময় থাকেনা এদের।
তবে আমি মনে করি বর্তমানের এই করুণ চিত্রকে পাল্টে দিতে পারে শুধু তরুণ সমাজ। আর সেজন্য দরকার রাজারহাটের তরুণদের একটি ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস। সেই প্রয়াস তৈরি করতে ইতোমধ্যেই ছোট ছোট কিছু সংগঠন তৈরি হয়েছে। আমার বিশ্বাস রাজার হাট উপজেলার এই দূর্দশার চিত্র বেশিদিন থাকবেনা ইনশাআল্লাহ…………
লেখক:সম্পাদক,সোসাইটিনিউজ২৪.কম

ট্যাগ
Close
Close